কড়ানজর
  • October 26, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

২০ শয্যা বিশিষ্ট গোহারুয়া হাসপাতাল ১৫ বছরেও সচল হয়নি

কড়ানজর প্রতিবেদন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ২০ শয্যা বিশিষ্ট গোহারুয়া হাসপাতালটি ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয় । নির্মাণের ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও কখনই হাসপাতালটিতে পুরোদমে সেবা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চার উপজেলার মানুষ। হাসপাতালটি নির্মানে ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। যা এখন ভূতের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। আবার কিছু ভবন হাস-মুরগীর খামার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা জানা, ২০০৪ সালের ১৫ এপ্রিল হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০৬ সালের ১৭ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান এই হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। হাসপাতাল ভবন ছাড়াও চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের জন্য আরও তিনটি দ্বিতল ভবন ও দুইটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনো চিকিৎসক  নিয়োগ না দিয়েই উদ্বোধন করা হয় হাসপাতালটি।

এলাকাবাসীর দাবীতে কুমিল্লার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য সচিবের কাছে হাসপাতালটি চালু ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে চিঠি দেন । ওই বছরই হাসাপাতালটির জন্য ছয়জন ডাক্তার ও ছয়জন নার্সের মোট ১২টি পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু জুন মাসে নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র একজন চিকিৎসা কর্মকর্তাকে। ওই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি এ হাসপাতালে ছিলেন কাগজে কলমে। তিনি যাওয়ার পর দুই নারী চিকিৎসক, একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও গাইনি বিশেষজ্ঞ কিছুদিন দায়িত্ব পান। তাদের কেউ বাস্তবে আসেনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এই হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে শুরুর জন্য বিভিন্ন জনের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। 

সরেজমিন হাসপাতাল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাঠে গরু চরছে। হাসপাতাল ব্যতীত বাকি ভবনগুলো দখল হয়ে গেছে। সেখানে গবাদি পশুর খাবার ও লাকড়ি রাখা হয়েছে। কিছু ভবন ব্যবহৃত হচ্ছে হাঁস-মুরগির খামার হিসেবে।নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ডবয়কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা।

নাঙ্গলকোট উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা দেবদাস দেব বলেন, “আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বছরের মধ্যে একটা ভালো সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”

কুমিল্লার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসেন বলেন, “কুমিল্লায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হলে বাড়তি চিকিৎসকের দরকার হবে। যা দেওয়ার সামর্থ্য বর্তমানে আমাদের নেই। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে গেলে ইনডোর ও আউটডোর দুটোতেই চিকিৎসা সেবা চালু করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *