কড়ানজর
  • June 23, 2021
  • Last Update June 23, 2021 12:22 am
  • গাজীপুর

‘সো হোয়াট?’ ইতিহাসের নির্দয় পুনরাবৃত্তি


কড়া নজর প্রতিবেদক ঃ
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর। মেজর রশিদের নেতৃত্বে সৈন্যরা আমিন আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন কর্নেল শাফায়াত জামিলকে নিয়ে যায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাড়িতে। জেনারেল জিয়া তখন সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান। জেনালের জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ঢোকার সময় রেডিওর মাধ্যমে আমিন আহমেদ চৌধুরী জানতে পারেন যে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। ‘জেনারেল জিয়া একদিকে শেভ করছেন একদিকে শেভ করে নাই। ¯িøপিং স্যুটে দৌড়ে আসলেন। শাফায়াতকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘শাফায়াত কী হয়েছে?’ শাফায়াত বললেন, ‘অ্যাপারেন্টলি দুই ব্যাটালিয়ন স্টেজড্ এ ক্যু। বাইরে কী হয়েছে এখনো আমরা কিছু জানি না। রেডিওতে অ্যানাউন্সমেন্ট শুনতেছি প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন।’ তখন জেনারেল জিয়া বললেন, সো হোয়াট? লেট ভাইস প্রেসিডেন্ট টেক ওভার। উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ পলিটিক্স।’
১৯৮১ সালের ৩০শে মে শুক্রবার ভোররাত। প্রচÐ-বৃষ্টির রাত। ‘ভোর ৪টার দিকে অফিসাররা অতর্কিতে সার্কিট হাউসে আক্রমণ করে। জুনিয়র অফিসাররা নিজেরাই দুই গ্রæপে ভাগ হয়ে প্রথমে সার্কিট হাউসে রকেট ল্যাঞ্চার নিক্ষেপ করে। পরে এক গ্রæপ গুলি করতে করতে ঝড়ের বেগে সার্কিট হাউসে ঢুকে পড়ে। গুলির শব্দ শুনে জিয়া রুম থেকে বের হয়ে আসেন এবং কয়েকজন অফিসার তাঁকে ঘিরে দাড়ায়। ওই সময় লে. কর্নেল মতিউর রহমান মাতাল অবস্থায় টলতে টলতে ‘জিয়া কোথায় জিয়া কোথায়’ বলে সিঁড়ি দিয়ে উপরে আসে এবং পলকেই গজ-খানেক সামনে থেকে তার চাইনিজ স্টেনগানের এক ম্যাগাজিন (২৮টি) গুলি জিয়ার উপর চালিয়ে দেন। অন্তত ২০টি বুলেট জিয়ার শরীরে বিদ্ধ হয় এবং পুরো শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়’।


জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার সময় সেনা বাহিনী প্রধান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ রাজধানীতে ছিলেন। কেউ একজন নিশ্চয় এরশাদকে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাÐের খবর দেন। তিনিও নিশ্চিত নির্বিকারভাবে বলে ওঠেন ‘সো হোয়াট? লেট ভাইস প্রেসিডেন্ট টেক ওভার। উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ পলিটিক্স’। হ্যাঁ, ভাইস প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন।
সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হবার ৮২ দিনের মধ্যে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। এরশাদ অবশ্য আরেকটু সময় নেন। বিচারপতি সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ৮ মাস ২৪ দিন পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
বঙ্গবন্ধুর পরিণতির সঙ্গে জিয়াউর রহমানের আরেকটি বড় পার্থক্য রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর লাশ ১৫ আগস্ট প্রায় সারাদিন ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে পড়েছিল। বিেেকলে খুনিরা হেলিকপ্টারযোগে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে ৫৭০ সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে সীমিত আকারে জানাযা শেষে সেখানে দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন।
৮১ সালের ৩০ মে নিহত সকালের আলো ফোটার আগেই জিয়াউর রহমানের মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়। মেজর শওকত আলী তার দল নিয়ে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ কবর দিতে নিয়ে যায়। ১ জুন গ্রামবাসীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় চট্টগ্রাম মিলিটারি একাডেমিতে কর্মরত হান্নান শাহ সৈন্যদের নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার এক পাহারে গিয়ে দেখেন নতুন মাটিতে চাপা দেয়া একটি কবর। সেখানে মাটি খুঁড়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরো দুই সেনা কর্মকর্তার মৃতদেহ দেখতে পান তারা। তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ তুলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ ঢাকায় পাঠানো হয়। মাটিচাপা ঝাঁঝরা হওয়া শরীর ৩ দিন পর ঢাকায় আসলেও তাঁতে আর মানুষের অবয়ব ছিল কি-না সহজেই অনুমান করা যায়।###

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *