কড়ানজর
  • June 23, 2021
  • Last Update June 23, 2021 12:22 am
  • গাজীপুর

শ্রীপুরে চাকরির প্রলোভনে ধর্ষন- ধর্ষক লাপাত্তা, ভিকটিম উদ্ধার হলেও মামলা হয়নি

শ্রীপুরে চাকরির প্রলোভনে ধর্ষন- ধর্ষক লাপাত্তা, ভিকটিম উদ্ধার হলেও মামলা হয়নি

ধর্ষক আবু সাঈদ কামাল (৪৫)

কড়া নজর প্রতিবেদনঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার সময় এলাকাবাসী পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এসময় ধর্ষক আবু সাঈদ কামাল (৪৫) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এদিকে শ্রীপুর থানা পুলিশ ভিকটিকের মেডিকেল না করে মেয়ের বাবাকে ডাকা এনে তার কাছে হস্তান্তর করে দেয়। আসামির সঙ্গে মোটা অংকের সমাঝোতা করে পুলিশ এ বেআইনি কাজ করেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
বুধবার ৮নং রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের সহিদের (৪৫) ছেলে মোস্তফার (মিস্ত্রী) বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।
আবু সাঈদ কামাল (৪৫) শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও গাজীপুর জেলা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। সে নোয়াগাঁও উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত করিম উদ্দিনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী মনির হোসেন মোল্লা জানান, অনুমান সকাল ১০টায় বাড়িতে হাত করাতের জন্য যাই। গিয়ে দেখি বাসায় তালা দেওয়া। কিন্তু বাড়ির পাশে জঙ্গলে দুই যুবককে সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখে স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে আসি। কোন বিষয় বুঝার আগে ওই যুবকরা আমাদের দিকে না এসে দ্রæত বাড়ির তালা ইট দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। আমি এগিয়ে গেলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আর ঘর থেকে দৌড়ে একজন পালিয়ে যায়। আমি ও আমার স্ত্রী ‘চোর’ ‘চোর’ বলে চিৎকার করলে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে নারীকে উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারী স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ আলী শেখ ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে স্বীকার করে, দৌড়ে পালানো যুবকের নাম আবু সাঈদ কামাল। নারীকে স্থানীয় পদ্মা পেপার মিলসে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এখানে এনে ফাঁদে ফেলে ধর্ষন করে। রাজেন্দ্রপুর রেল স্টেশনের আল- আমিন, পূর্ব টেক গ্রামের আলী হায়দার এবং বাড়ির মালিক এ কাজে সহায়তা করে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, আমাকে পরিকল্পিত ফাঁসানো হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভয়ে দৌড় দিয়েছি, পালাইনি’।
পরে স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক সুলতান ঘটনাস্থলে এসে ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বলে ওই মেয়েকে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে আজ শুক্রবার শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক সুলতানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিকটিককে তাঁর বাবার কাছে হস্তান্তরের কথা স্বীকার করেন। ডাক্তারি পরীক্ষা বা মামলা হয়নি কেন- এ প্রশ্নের তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *