কড়ানজর
  • October 20, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

মাহফিলের আড়ালে করতো জঙ্গী প্রচারণা

জঙ্গী নেতা মাহমুদ হাসান গুনবী ওরফে হাসান

কড়ানজর প্রতিবেদনঃ

দাওয়াত-ই ইসলাম নামক ইসলামী সংগঠনের সভাপতি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা মাহমুদ হাসান গুনবী ওরফে হাসান বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে জঙ্গিবাদের প্রচারণা এবং জঙ্গিদের প্রবেশ করাতো।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় এই সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাবের দাবি, গ্রেফতারকৃত মাহমুদ হাসান গুনবী ওরফে হাসান মানুষকে এতটাই মোটিভেট করত যে, যে কেউ তাদের মতাদর্শে জড়িয়ে পড়তে কোন পিছপা হতো না।

রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, অনেককেই নিজের মোটিভেশনাল শক্তির মাধ্যমে অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতো সে। যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতো তাদের ভেতরে নানা ধরনের অনুশোচনাবোধ জাগিয়ে তুলতো এবং জঙ্গিবাদের বিভিন্ন মতাদর্শ তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতো। উগ্রবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিতো গুনবী। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের অংশ নিয়ে তার মোটিভেশনাল পাওয়ারের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিদের মনস্তাত্ত্বিক বোধ জাগিয়ে তুলতো।

তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত গুনবীরের খাগড়াছড়িতে একটা মাদ্রাসা রয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট একটি গ্রুপকে সে আলাদা করতো। যেখানে তার যাতায়াত ছিল। অনেককে সেখানে নিয়ে যেত। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসাগুলোতে সে প্রচারণা এবং ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিত। সেখানে বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদ বিষয়ক বক্তব্য দিয়েছিল গুনবী। এমনকি বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে উগ্রবাদ ছড়ানোর পরিকল্পনা ছিল তার। এ ছাড়া জঙ্গিনেতা ওসামার প্রতিষ্ঠিত রাজবাড়ীতে একটি মাদ্রাসাতেও উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন গুনবীর। 

তিনি আরো বলেন, সময়োচিত পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন অভিযানে জঙ্গি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে পারেনি। জঙ্গিবাদ আমরা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি তবে এতে আমরা কোনও আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। যারা বিভিন্ন মাহফিলে অংশগ্রহণ বিষয়ক বক্তব্য রাখছেন তাদের বিষয়টি আমরা নজর রাখছি এবং আইন অনুযায়ী বিভিন্ন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আনসার আল ইসলাম মতাদর্শের সদস্যরা রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুর এলাকায় তাদের অবস্থান কিছুটা বেশি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। গুনবীরের কাছে থেকে আমরা আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।

এবছর এখন পর্যন্ত আনসার আল ইসলামের ৮৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে- এমন তথ্য জানিয়ে খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে আনসার আল ইসলামের সদস্যরাই বেশি ধরা পড়ছে, যারা উগ্রবাদী মতবাদের উসকে দিচ্ছে। গুনবী হেফাজতের কোনও কমিটিতে ছিল না এবং কোনও পদে ছিল না। তবে হেফাজতের বিভিন্ন প্রোগ্রামে সে অংশ নিয়েছে। নিজেকে জাহির করতে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *