কড়ানজর
  • September 26, 2021
  • Last Update September 25, 2021 7:00 pm
  • গাজীপুর

বাঙালির মুক্তির সনদ ‘৬ দফা’ দিবস আজ

কড়া নজর প্রতিবেদন ঃ

আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাঙালির মুক্তির সনদ হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কাছে যে ৬ দফা পেশ করেছিলেন তার বাস্তবায়নের দাবিতে ১৯৬৬ সালের আজকের দিনে (৭ জুন) ১১ জন বাঙালি শহিদ হন। আওয়ামী লীগের ডাকা সর্বাত্মক হরতাল চলাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। সেই সব শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ৭ জুন ‘৬ দফা দিবস’ হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এটি একটি অবিস্মরণীয় দিন। ছয়দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির ভেতর জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতার আকাঙ্খা তীব্র হয়। এর ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্ত করতে ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে একচেটিয়া ম্যান্ডেট দেন বাঙালিরা।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা উত্থাপন করেন। ছয় দফার মোদ্দা কথা ছিল, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে ছয় দফা স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বঙ্গবন্ধু অনুরোধ করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর এ দাবি তারা উপেক্ষিত হলে তিনি সম্মেলন বর্জন করেন। লাহোরে অবস্থানকালেই বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলন করে ছয় দফা উত্থাপন করেন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন খবরের কাগজে বঙ্গবন্ধুকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা’ বলে চিহ্নিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু ঢাকায় ফিরে ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে ছয় দফা উত্থাপন করে অনুমোদন নেন।

ছয় দফা দ্রæত বাঙালির মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু ছয় দফার পক্ষে দেশের আনাচে-কানাচে প্রচারণা চালান। ছয় দফা হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির সনদ। ছয় দফার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা দেখে ভড়কে যায় সামরিক শাসকরা। তারা নিপীড়নের পথ বেছে নেয়। আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী সরকার ১৯৬৬ সালের ৮ মে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৭ জুন নতুন মাত্রা পায়। ১৯৬৬ সালের এই দিনে হরতালে টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হক, মুজিবুল হকসহ মোট ১১ জন বাঙালি শহিদ হন। ৬ দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ ছিলেন সিলেটের মনু মিয়া। শহীদের রক্তে ছয় দফা আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো দ্রæত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র; রাজপথে নেমে আসে বাংলার মুক্তিকামী জনগণ।

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় দফার প্রতি বাঙালির অকুণ্ঠ সমর্থনে রচিত হয় স্বাধীনতার রূপরেখা। ছয় দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অঙ্কুরিত হয় স্বাধীনতার স্বপ্নবীজ। ছয় দফা ভিত্তিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়। ছয় দফাভিত্তিক ১১ দফা আন্দোলনের পথ পরিক্রমায় ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ঘটায় বীর বাঙালিরা। এর ফলাফল আসে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে। বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনীত প্রার্থীদের একচেটিয়া রায় প্রদান করে। পূর্ব পাকিস্থানের ১৬৯ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৬৭ আসন।

নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠি যখন সরকার গঠনে নির্বাচিত বাঙালি জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ৭ মার্চেও ভাষণেও ছয় দফার পর্যালোচনা ছিল। পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালনা এবং দেশের অভ্যন্তরে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় ৬ দফার আলোকে।

#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *