কড়ানজর
  • November 26, 2020
  • Last Update August 15, 2020 7:07 am
  • গাজীপুর

বঙ্গবন্ধুর শেষ বিকেলটি ছিল ভারাক্রান্ত

বঙ্গবন্ধুর শেষ বিকেলটি ছিল ভারাক্রান্ত

কড়া নজর প্রতিবেদনঃ
১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফিরবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে নিতে এসেছে একটি কালো গাড়ি। বঙ্গবন্ধুর মতো একজন আপসহীন ও অবিচল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গাড়িতে উঠতে গিয়ে অজ্ঞাত কারণে যেন ক্ষণিকের জন্য থমকে গেলেন। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে স্বভাবসূলভ গাড়িতে বসলেন।
রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সরকারি বার্তা সংস্থাকে এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ বিকালটা গণভবনে অন্যান্য দিনের মতো রুটিন কাজের বাইরে আরও দুটি বিশেষ প্রস্তুতি চলছিল। একটি হচ্ছে, পরদিনের (১৫ আগস্ট ’৭৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি। দ্বিতীয়টি হচ্ছে তিন কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেদিন বিদায় নিলেন রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, যুগ্ম সচিব এম মনোয়ারুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমদ।
সন্ধ্যাবেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবদুল মতিন চৌধুরীর সঙ্গে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি খাবার নিয়েও কথা বলেন বঙ্গবন্ধু। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বহিষ্কৃত হয়েছিলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই তাকে ‘সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রী দিতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে মৃদু রসিকতাও করেন বঙ্গবন্ধু।
একান্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং সামরিক সচিবের বিদায়ে বঙ্গবন্ধুর মন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে গণভবন থেকে বিদায়ের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘মনোয়ার আর ফরাস দু’দিন পরেই চলে যাবে; ছেলে দুটো মায়া লাগিয়ে যাচ্ছে। খারাপ লাগবে খুবই। ভাগ্যিস জামিল এখানেই থাকছে।’
ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রতিদিন কাজ শেষে গণভবনের সামনের লনে কিছু সময় পায়চারি করতেন। গাছের পরিচর্যায় ঘাটতি আছে কী-না , লেকের পানি-মাছের বিচরণ স্বাভাবিক কী-না খেয়াল করতেন। সন্ধ্যায় গণভবনের বাইরে দলবল নিয়ে কিছু সময় মুক্ত আলোচনার করতেন। সেদিন এ সবের কিছুই করেননি তিনি। ওইদিন দুপুরে নোয়াখালীতে ভারতীয় একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার এমনিতেই পরিবেশটা গোমট ছিল।

বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব বলেন, ‘সেদিন গণভবন থেকে ঘরে ফেরার মুহূর্তে অন্যদিনের মতোই সচিবদের কাছ থেকে বিদায় নিলেও নিভৃতে এক বিষন্নতার সুরই যেন বেজে উঠেছিল সবার হৃদয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর বলেন, ‘তিনি জানতেন না, আরেকটি সন্ধ্যা তার জীবনে আসবে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যেন বুঝতে পারছিলেন তার সময় ফুরিয়ে আসছে’।
প্রসঙ্গতঃ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, এম মনোয়ারুল ইসলাম অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রী লাভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার অনুমতি নিয়ে ১৭ আগস্ট চলে যাওয়ার কথা ছিল। আর কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমদের রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডাইরেক্টর ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিএফআই, বর্তমানে ডিজিএফআই) পদে যোগ দেয়ার কথা ছিল। বঙ্গবন্ধুর বাসা আক্রান্ত হলে তিনি নিজে সেনাবাহিনীর প্রধান, পুলিশ প্রধানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সকল সংস্থা প্রধানকে ফোন করেন। কেউ স্ত্রীকে দিয়ে ফোন ধরিয়েছেন, কেউ জাগ্রত থেকেও ফোন ধরেননি, কেউ ফোন ধরে ‘ব্যবস্থা নিচ্ছি স্যার’ বলে রিসিভার উঠিয়ে রেখেছেন। শুধুমাত্র কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমদ তৎক্ষনাত ফোর্সকে রেডি হয়ে ৩২ নম্বরে মার্চ করার নির্দেশ দিয়ে নিজে জিপ নিয়ে ৩২ নম্বরের দিকে ছুটেন। পথে সোবহানবাগ মসজিদের কাছে খুনিরা বাঁধা দেয়। তিনি তা উপেক্ষা করে এগোনোর চেষ্টা করলে এক ঝাঁক বুলেট তার বুক ঝাঁঝরা করে দেয়।

#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *