কড়ানজর
  • October 17, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্রমজীবী নারীকে খুন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্রমজীবী নারীকে খুন

কড়া নজর প্রতিবেদকঃ

মোংলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিপক্ষ সদস্য প্রার্থীকে ফাঁসানোর জন্য ঢাকার সাভারে এক নারীকে বাসাভাড়া নিয়ে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়। খুন করার পর ওই কক্ষে প্রতিপক্ষ এক সদস্য প্রার্থীর আইডি কার্ড রেখে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই-র ঢাকা জেলার পুলিশ। পিবিআই বলছে, ‘প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে কেন দুর্বল শ্রেণির মানুষ টার্গেট হচ্ছে- তা নিয়ে গবেষণা করা উচিৎ। ষড়যন্ত্রকারীরা কি ধারণা করছে যে, তাদের পাশে কেউ থাকবে না? আমরা তাদের পাশে থাকবো, পিবিআই থাকবে।’

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ পিবিআই-র প্রধান কার্যালয় এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে ডিআইজি বনজ কুমার এমন আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, মোংলা থানার ৬ নং চিলা ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর। এই নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছিলেন হালিম হাওলাদার, বেলাল সরদার এবং এশারাত। এই ওয়ার্ডে আগের মেয়াদে সদস্য ছিলেন হালিম হাওলাদার। তার প্রতিবেশী বেলাল সর্দার এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে বর্তমান মেম্বার হালিম হাওলাদার হেরে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। তাই বেলালকে নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেন হালিম। এরপর তিনি পূর্বপরিচিত পিরোজপুরের জামাল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেলালকে ফাঁসানোর জন্য একটি খুনের পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০ হাজার টাকায় জামাল হাওলাদারের সঙ্গে হালিমের চুক্তি হয়। নগদ পাঁচ হাজার টাকাও দেন তাকে। 

ডিআইজি বনজ কুমার জানান, ‘জামাল হাওলাদার ঢাকার সাভারের মশিউর রহমান মিলন নামে এক কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার কাছে খুন করার জন্য একজন ভিকটিম চায় জামাল। মশিউর তাকে বলেন, ‘একজন নারী আছে, তাকে দেওয়া যাবে।’

এরপর কথা মতো জামাল সাভারে গিয়ে মশিউরের দেওয়া পারুল বেগম নামে ওই নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। পারুল বেগম সাভারে একা থাকতেন। শিশুদের পোশাক ফেরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে। তিনি পারুলকে বিয়ে করার কথা বলে সাভারের নামা বাজার এলাকায় গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেন। ওইদিন রাতেই জামাল পারুলকে খুন করে পালিয়ে যায়। পরদিন বাসা থেকে কেউ বের না হওয়ায় ওই বাড়ির কেয়ারটেকার জানালা খুলে ওই নারীর লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

ওই বাসা থেকে একটি জাতীয় পরিচয় পত্র উদ্ধার করা হয়। যে পরিচয়পত্রটি ইউপি সদস্য প্রার্থী বেলাল সরদারের। ওই ঘটনায় সাভার থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা হয়। পিবিআই মামলার তদন্ত দায়িত্ব পায়। জাতীয় পরিচয় পত্র ধরে বেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করে পিবিআই। বনজ কুমার বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র ধরে বেলালকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। তার কাছে জানতে চাই- তার কোনও শত্রু আছে কিনা। বেলাল জানান, নির্বাচনের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বি হালিম ও এশারাতের নাম বলেন। এছাড়া আর কোনও শত্রু নাই।’

তদন্ত করতে গিয়ে এক পর্যায়ে পিবিআই জানতে পারে হালিমের সঙ্গে ঢাকায় মশিউরের সঙ্গে ঘনঘন যোগাযোগ হয়। পিবিআই প্রধান বলেন, এই সূত্র ধরে জামাল হাওলাদারকে শনাক্ত করে পিবিআই। তার ছবি দেখালে সাভারের ওই বাসার বাসিন্দারা জামালকে শনাক্ত করেন। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হয়। জামালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মশিউর রহমান মিলনকেও গ্রেফতার করা হয়।

বনজ কুমার আরো জানান, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই হত্যাকাণ্ড, কিন্তু কেন। মেম্বার সামান্য একটি পদ, সেই পদের জন্য কেন এমন খুন। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে খুনি ও ভিকটিম কেউ জানে না কে খুন হবে। তারা কেবল দুর্বল দেখে টার্গেট খোঁজে। ওই নারীকে হত্যার পর জামাল ও হালিম বেশ কয়েকবার ফোনে কথা বলেছে। প্রতিপক্ষ গ্রেফতার না হলে আরও খুন করার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তাদের পরবর্তী টার্গেট ছিল একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি। সেই খুনে ফাঁসাতে পারলে বেলালকে গ্রেফতার করা সম্ভব হতো বলে ধারণা করেছিল তারা।

এরই মধ্যে জামাল ও মশিউর দুজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা আদালতকে জানিয়েছেন, ইউপি সদস্য হালিমের পরিকল্পনাতেই এই হত্যাকাণ্ড হয়। মূলত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বেলালকে ফাঁসানোর জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তবে নির্বাচনের কারণে পিবিআই হালিমকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করেনি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর হালিমকে গ্রেফতার করে। নির্বাচনে বেলাল বা হালিমের কেউ জেতেননি। জয় পেয়েছেন তৃতীয় প্রার্থী এশারাত নামের ব্যক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *