কড়ানজর
  • October 17, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

পরিবর্তন হবে পাঠ্যবই

পরিবর্তন হবে পাঠ্যবই

কড়া নজর প্রতিবেদকঃ

নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুমোদনের পর এখন বিষয় অনুযায়ী পাঠ্যবই প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এতে তথ্য ও তত্ত্বগত বিষয় কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নের ধরনেও পরিবর্তন হবে।

নতুন পাঠ্যবই সম্পর্কে এসব বিষয় জানিয়েছেন এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা এবং শিক্ষাক্রম তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তাঁরা বলেছেন, প্রাথমিক স্তরে বইয়ের সংখ্যা এখনকার মতো থাকছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে বইয়ের সংখ্যা কমবে। নতুন বইয়ে বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ধরন পাল্টে সহজে শিখনের বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত শিক্ষাক্রমটি হয়ে গেলেই পাঠ্যবই লেখার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এখন শুধু প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই লেখা হবে। কারণ, আগামী বছর থেকে এই দুই শ্রেণির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। পরের বছর (২০২৩ সাল) থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী সব শ্রেণির জন্য নতুন পাঠ্যবই হবে।

* উচ্চমাধ্যমিকে ছয় বিষয়ের মধ্যে তিনটি বাধ্যতামূলক। বাকি তিনটি পছন্দমতো। * সতীর্থরাও মূল্যায়ন করবে শিক্ষার্থীদের। * প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর সম্প্রতি প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখার অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন শিক্ষাক্রমে বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়নের (শিখনকালীন) ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটিরও পরিবর্তন হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এক দিনের স্থলে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করা হবে।

পাঠ্যবই যেমন হবে

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে আগামী ১ বা ২ অক্টোবর নতুন পাঠ্যবই প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। অক্টোবরের মধ্যে বই লেখার কাজ শেষ করে ছাপার কাজ শুরু করতে চায় এনসিটিবি। এবার শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত আছেন, তাঁরাই মূলত বইগুলো লিখবেন।

এখনকার মতো প্রাক্-প্রাথমিকের শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষাক্রমেও কোনো বই থাকবে না। নতুন শিক্ষাক্রমে ভাষা ও যোগাযোগসহ শেখার জন্য যে ১০টি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো শিক্ষকেরা ‘শিক্ষক গাইডের’ আলোকে এই স্তরের শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে অনুশীলন করাবেন।

প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর জন্য আটটি বিষয় ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্মশিক্ষা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি। তবে সব বিষয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা বই পাবে না। এর মধ্যে এখনকার মতো প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য বাংলা, ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই পাবে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতেও এখনকার মতো ছয়টি বই থাকবে। এগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ধর্মশিক্ষা। বাকি দুটি বিষয় শিক্ষকেরা শিক্ষক গাইডের আলোকে পড়াবেন।

বর্তমান শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এখন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪টি বই পড়ানো হয়। নতুন শিক্ষাক্রমে এসব শ্রেণির প্রতিটিতে ১০টি বিষয়ে ১০টি বই থাকবে। এগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, জীবন ও জীবিকা, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, ধর্মশিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *