কড়ানজর
  • October 26, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

পরামর্শক কমিটিকে পাশ কাটিয়ে বিধিনিষেধ ৮দিন শিথিলের সিদ্ধান্ত


কড়া নজর প্রতিবেদন ঃ
একদিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওইদিনই সরকার পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিধিনিষেধ আট দিন শিথিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। শিথিল করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
অধিদপ্তর জানায়, দেশে ২৪ ঘণ্টায় (গত রোববার সকাল আটটা থেকে আজ সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৮ জন। এই সময় করোনায় মারা গেছে ২২০ জন।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আট দিন শিথিল করার সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সভাপতি মোহাম্মদ সহিদুল্লা। তিনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁদের পরামর্শের উল্টো। এর ফলে সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, বিধিনিষেধ ১৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত আট দিন শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে আবার কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হবে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর গত ১ জুলাই হতে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন জারি করা হয়। পরে এই লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়।


বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখনো বাড়ছে । সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে ১৩ হাজার ৭৬৮ জন করোনাইরাস আক্রান্ত মানুষ শনাক্ত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।
গত বছর মার্চে করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হবার পর দৈনিক সংক্রমণের দিক থেকে এটিই সর্বোচ্চ।
কোন কোন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে তা আগামীকাল মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শিথিলের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন এবং শপিং মলসহ দোকানপাট খোলা থাকবে। তবে আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলতে হবে গণপরিবহনকে। ইতিমধ্যে রেল মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে। এ ক্ষেত্রে টিকিট শুধুমাত্র অনলাইনে বিক্রি হবে।
করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকার এ বছর ৫ এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ দিয়ে আসছে। দেশব্যাপী বিধিনিষেধের পাশাপাশি এবার স্থানীয় প্রশাসনও বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ জারি হয়েছিল। কিন্তু তারপরও করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত করোনা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখন শ্রমজীবী মানুষসহ জীবিকার দিক বিবেচনা করে ঈদকে ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রগুলো জানিয়েছে।


ঢাকায় গরুর হাট ১৭ জুলাই থেকে

ঢাকার দক্ষিণ এবং উত্তর – দু’টি সিটি কর্পোরেশন থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে যে, নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ১৭ই জুলাই থেকে কোরবানির পশুর হাট শুরু হবে।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনেই ১৭ই জুলাই থেকে ২১শে জুলাই অর্থাৎ ঈদের দিন পর্যন্ত হাট চলবে।

বাংলাদেশে গত কয়েক সপ্তাহ যাবত করোনাভাইরাসের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে ১ জুলাই থেকে দেশে চলছে একটি সর্বাত্মক লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধ।

এর মধ্যে গরুর হাট শুরু করা নিয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ছিল।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, সারা দেশের কোরবানির পশুর হাটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১৪ই জুলাই ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *