কড়ানজর
  • October 20, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

চলে গেলেন ঢাবির সাবেক ভিসি – অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ

চলে গেলেন ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ

কড়া নজর প্রতিবেদনঃ
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, লেখক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ আর নেই। তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি মারা যান। উনার মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন এই এ খবর জানিয়েছেন।
মৃত্যুকালে ড. এমাজউদ্দীনের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। রাত ২টার দিকে অসুস্থতা বোধ করেন। বমি ও পেট খারাপ হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে মারা যান তিনি।
ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন জানান, বাদ জুমা রাজধানীর কাঁটাবনে মরহুমের বাসভবন সংলগ্ন বাজমে কাদেরিয়া জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মরহুমকে তার স্ত্রীর কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।

১ নভেম্বর ১৯৯২ থেকে ৩১ আগস্ট ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯২ সালে একুশে পদক পান।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, ‘স্যারের মৃত্যুতে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করছি। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন স্যার দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করছি।’

প্রফেসর ড.এমাজউদ্দিন আহমদ ১৯৩২ সালের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন মালদাহ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভারতের কিছু অংশ) জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ‘গোহাল বাড়ি’ এলাকায় পরিবারসহ দীর্ঘদিন বসবাস করেন প্রফেসর এমাজউদ্দিন। তিনি শিবগঞ্জের আদিনা সরকারি ফজলুল হক কলেজ ও রাজশাহী কলেজের প্রাক্তণ ছাত্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং উপাচার্য নভেম্বর ১, ১৯৯২-আগস্ট ৩১, ১৯৯৬ হিসেবে দীর্ঘদিন সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা) ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সৃজনশীল লেখার জন্যে তিনি দেশ ও বিদেশে বিশেষভাবে সম্মানিত হয়েছেন। সৃষ্টিশীল গবেষণা ও আলেখ্য রচনার জন্য ‘মহাকাল কৃষ্টি চিন্তা সংঘ স্বর্ণপদক’, জাতীয় সাহিত্য সংসদ স্বর্ণপদক, জিয়া সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক অর্জন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৯২ সালে একুশে পদক, মাইকেল মধুসুদন দত্ত গোল্ড মেডেল, শেরে বাংলা স্মৃতি স্বর্ণপদক, ঢাকা সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট গোল্ড মেডেল, রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম স্বর্ণপদকসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেন।

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তুলনামূলক রাজনীতি, প্রশাসন-ব্যবস্থা, বাংলাদেশের রাজনীতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে গবেষণা করে চলেছেন। এসব ক্ষেত্রে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবেও প্রখ্যাত। তার লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *