কড়ানজর
  • September 19, 2021
  • Last Update September 19, 2021 9:03 pm
  • গাজীপুর

কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ সমুদ্রে হচ্ছে ১৩০০ ফুট রানওয়ে

কড়া নজর প্রতিবেদন ঃ

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। এবার বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়েটিও হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের। যার দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৭শ ফুট। এই রানওয়ের বিশেষত্ব হচ্ছে, ১৩০০ ফুট থাকবে সমুদ্রের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ এই নান্দনিক সম্প্রসারণ কাজের উদ্ভোধন করবেন।

রানওয়ের নির্মানকাজ শেষ হলে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে যখন উড়োজাহাজ অবতরণ বা উড্ডয়ন করবে তখন উড়োজাহাজের দুপাশে থাকবে বঙ্গোপসাগরের অপার নীল জলরাশি। মুগ্ধনয়নে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা উর্মিমালা দেখবে। অনুভুতি হবে সমুদ্র অবগাহনের।

সোনাদিয়া দ্বীপের বুক চিরে ধাবমান মহেশখালী চ্যানেল। মহেশখালী চ্যানেলের দিকে ভূমি অধিগ্রহণ করে রানওয়ে স¤প্রসারণ করা হচ্ছে। রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১০ হাজার ৫শ ফুট। সম্প্রসারিত কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে হবে এর চেয়ে ২০০ ফুট বড়।

সমুদ্রশাসন করে যেভাবে হবে রানওয়ে

সমুদ্রের যেখানে রানওয়ে হবে সেখানে পানিতে বøক, জিওটিউব ব্যবহার করে শুরুতেই একটি বাঁধ তৈরি করা হবে। পরে বাঁধের ভেতরকার পানি সেচ করে ফেলা হবে। সেই স্থান পূরণ করা হবে গভীর সমুদ্র থেকে ড্রেজিং করে আনা বালি দিয়ে। সমুদ্রের ভরাট অংশটি ‘স্যান্ড পাইলিং’-এর মাধ্যমে রানওয়ের ভিত তৈরি করা হবে। সবশেষে পাথরের স্তর বসিয়ে পুরো রানওয়ে সিল করে দেয়া হবে। তার ওপর হবে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। এরপর বাকি থাকবে রানওয়ের শোভাবর্ধন ও নির্দেশক বাতি স্থাপনের কাজ। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো এই প্রক্রিয়ায় কোন বিমানবন্দরের রানওয়ে তৈরি হচ্ছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরটির রানওয়ের পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে দেখা যাবে সৌন্দর্যের আরেক ভিন্ন জগত।’

কেন বঙ্গোপসাগরে রানওয়ে !

শহরের দিকে বিমানবন্দর স¤প্রসারণ করতে হলে শহরের একটি বড় অংশ বিমানবন্দরের দখলে চলে যেতো। যার মধ্যে বিলাসবহুল কয়েকটি হোটেল, আবাসিক ভবন, লাবনি বিচসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনা রয়েছে। এ কারণে বিমানবন্দরের উল্টো পাশে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে সমুদ্রের ওপরেই এই রানওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নতুন কী কী হচ্ছে !

বিমানবন্দরের রানওয়ে স¤প্রসারণের পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে নতুন টার্মিনাল ভবন। এছাড়া বসানো হচ্ছে গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম, সেন্ট্রাল লাইন লাইট, সমুদ্র বুকের ৯০০ মিটার পর্যন্ত প্রিসিশন এপ্রোচ লাইটিং, ইন্সট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেম, নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ ও বাঁকখালী নদীর উপর সংযোগ সেতু। সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে এটি হবে দেশে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রানওয়ে স¤প্রসারণের দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে প্রায় পৌনে চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। স¤প্রসারণের কাজ শেষ হতে তিন বছরের কিছু কম সময় লাগবে বলে প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মান পাচ্ছে ঃ

বর্তমানে কক্সবাজারের রানওয়ে ও অবকাঠামো সব ধরনের বিমান চলাচলের জন্য উপযোগী না।

রানওয়ে স¤প্রসারণ হলে এই বিমানবন্দরে বিশ্বের সবচেয়ে সুপরিসর উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭ ও বোয়িং ৭৪৭ মডেলের যাত্রী বোঝাই বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। এখানে রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। সব মিলিয়ে বিমানবন্দরটিতে দেশি-বিদেশি সরাসরি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে।

#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *