কড়ানজর
  • July 26, 2021
  • Last Update July 25, 2021 9:04 pm
  • গাজীপুর

এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কড়া নজর প্রতিবেদনঃ
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছরের ১৪ জুলাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত্যুবার্ষিকী পালনে জাতীয় পার্টি, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্ট ও বেগম রওশন এরশাদের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

সকালে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে রংপুরে এরশাদের সমাধি জিয়ারত করে দুপুরে ফিরে কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল ও বনানীর পৃথক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের। বেলা ১১টায় গুলশানের বাসায় দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। এরশাদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে দুপুর ১২টায় কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরশাদের প্রতীকী বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিকালে প্রেসিডেন্ট পার্কে স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে ট্রাস্টের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরের মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণও পৃথক পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির কাকরাইলে আজ সকাল ১০টায় আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

আগামীকাল দুপুরে মোহাম্মদপুরে মিলাদ-মাহফিল ও আলোচনার মধ্য দিয়ে এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হবে। অন্যদিকে ১৭ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদের উদ্যোগে তার নির্বাচনী এলাকা ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইলে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে তার পরিবার রংপুরে চলে আসেন। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এরশাদ। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৩ সালে এরশাদকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্ট মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনীপ্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালে এরশাদ গ্রেপ্তার হন। ১৯৯১ সালে জেলে অন্তরীণ থাকাবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর জেলে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের আমলে তিনি জামিনে মুক্ত হন। ২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। এর পর ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন তিনি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এর পর দশম ও সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সাংসদ হন। তিনি চলতি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *