কড়ানজর
  • October 17, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

এমসি কলেজে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: নতুন অভিযোগ গঠন

এমসি কলেজে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: নতুন অভিযোগ গঠন

কড়া নজর প্রতিবেদকঃ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার এক বছর হলো আজ। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বামীকে বেঁধে রেখে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠে কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আট জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হওয়া দুটি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে উচ্চ আদালতের আদেশে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের দুই মামলার বিচার কার্যক্রম একই আদালতে একই সঙ্গে চলবে বলেও জানা গেছে। এ জন্য নতুন করে মামলার অভিযোগ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, কয়েক মাস আগে মামলা দুটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এখনও কোনও নির্দেশনা আসেনি। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলার বিচার হবে একই সঙ্গে এবং একই আদালতে। সেইসঙ্গে আলোচিত দুই মামলার নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হবে।

তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কোনও মামলায় একইসঙ্গে দণ্ডবিধি আইনের ধারা থাকলে মামলার বিচার একই আদালতে চলতে পারে। একসঙ্গে বিচার কার্যক্রম চলতে কোনও বাধা নেই। কিন্তু একই ঘটনায় পুলিশের দুটি অভিযোগপত্র দেওয়ায় বাদীপক্ষের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। কারণ, চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষীরা দুই আদালতে দু’দিন আসবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বাদীপক্ষ। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার সবাই নানাভাবে প্রভাবশালী। এজন্য বাদীপক্ষ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়। আগামী ১৩ অক্টোবর বুধবার মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ রয়েছে। তবে ওইদিন কোন আদালতে অভিযোগ গঠন করা হবে তা এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট রাশিদা সাঈদা খানম বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনেক আগে এলেও করোনার কারণে এর কোনও অগ্রগতি হয়নি। উচ্চ আদালতের আদেশের ফলে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হবে। আগামী ১৩ অক্টোবর তারিখ ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন অভিযোগ গঠন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি আদালতে এ দুটি মামলার বিচারকাজ একসঙ্গে শুরু করার আবেদন করেছিলেন বাদীপক্ষ। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি খারিজ করে দেন। এরপরই বাদীপক্ষ মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একই আদালতে সম্পন্নের জন্য জানুয়ারি মাসেই উচ্চ আদালতে একটি ফৌজদারি বিবিধ মামলা করেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ঘটনায় মামলা দুটির বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে একই আদালতে সম্পন্নের আদেশ দেন। 

এদিকে আলোচিত এই ধর্ষণের ঘটনায় সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গির মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির (গাছবাড়ী) সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার (বাসা নম্বর-৭৬) মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিজবাউল ইসলাম রাজনকে (২৭) অভিযুক্ত করে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এতে ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য রাজন ঘটনার দুই মাস আট দিন পর ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেন। গ্রেফতার আট আসামির সবাই অকপটে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *