কড়ানজর
  • September 19, 2021
  • Last Update September 19, 2021 9:03 pm
  • গাজীপুর

ইসরাইলি ফোন হ্যাকের যন্ত্র প্যাগাসাস !!! টার্গেট ইমরান খান, ম্যাক্রঁসহ রাষ্ট্রনেতারা

কড়া নজর প্রতিবেদক ঃ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ফোন হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছে ভারত থেকে। ইসরাইলি স্পাইওয়্যার পেগাসাস দিয়ে এ কাজ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে ধরা পরেছে। শুধু ইমরান খান নয়  ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ, দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিল রামাফোসা, ইরাকের বারহাম সালিহ মিশরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবউলি,মরক্কোর সাদ-এদিন আল ওথমানি। তালিকায় আছেন ৭ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন – ফ্রান্সের এডওয়ার্ড ফিলিপে, বেলজিয়ামের চার্লস মিশেল, ইয়েমেনের ওবায়েদ বিন দাঘর, লেবাননের সাদ হারিরি, উগান্ডার রুহাকানা রুগুন্ডা, কাজাকিস্তানের বাকিতজান সাগিনতায়েব এবং আলজেরিয়ার নুরুদিন বেদুই। এছাড়া টার্গেট হয়েছেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহামেদ। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ১৪ জনের কেউই তাদের মোবাইল ফোন সেট অনুসন্ধানকারী সাংবাদিকদের বা তাদের সহযোগী বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেননি।
তারপরও গোপনে মোবাইল ফোনে ঢুকিয়ে কীভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্র নজরদারি করছে পেগাসাস – তা নিয়ে আন্তর্জাতিক এক অনুসন্ধানে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
কীভাবে ফাঁস হলো !
বিশ্বের প্রথম সারির ১৭টি মিডিয়া ও প্যারিস ভিত্তিক একটি এনজিও এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধান করেছে দীর্ঘদিন যাবত। অনুসন্ধানে তাঁরা দেখতে পায় – উল্লেখিত ১০ জন বিশিষ্ট লোকই কেবল নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যবহার করা ৫০হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোন নম্বর পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, বিজ্ঞানী এবং এমনকি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারকও রয়েছেন।
বর্তমান ও সাবেক এসব সরকার এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা যে মোবাইল ফোন নম্বরগুলো ব্যবহার করতেন সেগুলো পরীক্ষা করে স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়া গেছে। মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহামেদ
কোন্ দেশ, কোন্ নেতাকে টার্গেট করা হয়েছে
মরোক্কো থেকে হ্যাকিং
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ এবং তার সরকারের ফ্রান্সের ১৪ জন মন্ত্রীসহ কয়েকজন ডজন কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হয়েছে। সেগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে মরক্কো থেকে।
ফরাসি দৈনিক ল্য মঁদ, যারা এই অনুসন্ধান প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার, এক রিপোর্টে বলেছে, মি ম্যাক্রঁর এমন একটি ফোন মরক্কোর গোয়েন্দা সংস্থা টার্গেট করে যেটি তিনি ২০১৭ সাল থেকে ব্যবহার করছেন।
বলা হচ্ছে, বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিশেল, ডব্লিউ এইচ ও  প্রধান এবং ইটালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোমানো প্রদি সহ ১০ হাজারের মত ফোন নম্বর হ্যাকিংয়ের জন্য টার্গেট করা হয় মরক্কো থেকে।
ভারত থেকে হ্যাকিং
লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকা বলছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে টার্গেট করা হয়েছে যে ভারত থেকে তার আলামত অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।
সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত
ইরাকের প্রেসিডেন্ট সালিহ এবং লেবাননের সাদ হারিরিকে টার্গেট করা হয়েছে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
উগান্ডা থেকে
দক্ষিণ আফ্রিকার রামাফোসা এবং উগান্ডার রুগুন্ডাকে টার্গেট করা হয়েছে উগান্ডা থেকে।
পেগাসাসের যথেচ্ছ ব্যবহার
মেক্সিকোতে পেগাসাসের যথেচ্ছ ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানের তালিকার ৫০ হাজার ফোন নম্বরের ১৫ হাজারই মেক্সিকোর। তালিকায় মেক্সিকোর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফেলিপ কালডেরনের ফোন নম্বরও রয়েছে। ২০১২ সালে তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের আগে তার নম্বর টার্গেট করা হয়।
পেগাসাসেস বিক্রেতা এনএসও আত্মপক্ষ সমর্থন
পেগাসাস স্পাইওয়্যারের বিক্রেতা ইসরাইলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপ ক্রমাগত বলে চলেছে তাদের সফটওয়্যার নিয়ে এসব অভিযোগ মনগড়া, অসত্য। এনএসও জানিয়েছে, ৪০টি দেশের ৬০টি সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের ক্রেতা, এবং ইসরাইলি এই কোম্পানি বলছে শুধুমাত্র সন্ত্রাসী এবং শিশু যৌন নির্যাতনকারী, মাদক ব্যবসায়ী বা মানব পাচারকারীদের মত গুরুতর অপরাধীদের নজরদারি করার শর্তেই এই সফটওয়্যার তারা বিক্রি করে। এক বিবৃতিতে এনএসও আরো বলেছে, ক্রেতা রাষ্ট্রগুলো কীভাবে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করছে তার ওপর তারা নিয়মিত নজর রাখে এবং শর্ত ভাঙলে সফটওয়্যারটির ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়।
কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্ট এবং গার্ডিয়ান বলছে, অ্যামনেস্টির সিকিউরিটি ল্যাবে এসব নম্বর সম্বলিত ৬৭টি স্মার্টফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে সেগুলোর ৩৭টির মধ্যে হয় পেগাসাস সফটওয়্যারটি ঢোকানো হয়েছিল অথবা ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছিল।
পেগাসাসের বিস্তার
অনুসন্ধানের তালিকায় ৩৪টি দেশের ৬০০ সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনীতিকের ফোন নম্বর রয়েছে। শীর্ষ রাজনীতিক এবং নেতাদের টার্গেট করা হয়েছে যে ১৪টি দেশে সেগুলো ছাড়াও আরো যেসব দেশের কর্মকর্তারা পেগাসাসের টার্গেট হয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে : আফগানিস্তান, আজারবাইজান, বাহরাইন, ভুটান, চীন, কঙ্গো, হাঙ্গেরি, ভারত, ইরান, কাজাকিস্তান, মালি, নেপাল, কাতার, সৌদি আরব, টোগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট এবং ব্রিটেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে কোনো কোনো নেতার ফোনে একাধিকবার পেগাসাস ঢোকানো হয়েছে। শুধু তারাই নয়, তাদের বন্ধু, স্বজন এবং কর্মচারীদের ফোনও হ্যাক করা হয়েছে বা চেষ্টা হয়েছে। মেক্সিকোতে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট অন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ অবরাডরের স্ত্রী, সন্তান, গাড়িচালক এবং এমনকি তার একজন চিকিৎসকের ফোনও নজরদারির জন্য টার্গেট করা হয়েছে।
বিরোধী কংগ্রেস দলের সমর্থকরা বিক্ষোভ করছেন রাহুল গান্ধীর ফোন হ্যাকিংএর খবরে ভারতে মোদী সরকার রাহুল গান্ধীকে ইসরাইলি স্পাইওয়্যার দিয়ে নজরদারির টার্গেট করা হয়েছে – এমন খবরে বিরোধী কংগ্রেস দলের সমর্থকরা বিক্ষোভ করছেন।
তালিকায় কী বাংলাদেশ আছে ?
বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোনে আড়ি পাতার যে নিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে সেখানে বাংলাদেশের কোন টেলিফোন নম্বর আছে কী-না তা এখনও স্পষ্ট নয় । ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এনএসও ‘পেগাসাস’ নামের সফটওয়্যরটি তৈরি করেছে। ইমসি ক্যাচার নামে এই যন্ত্র দিয়ে ওয়াই-ফাই, সেলুলার এবং ভিডিও নজরদারি করা হয়।
বিশ্বের ১৭টি প্রথম সারির মিডিয়া, সাংবাদিকতা বিষয়ক প্যারিস-ভিত্তি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ফরবিডেন স্টোরি এবং মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যৌথ অনুসন্ধানে ‘পেগসাস’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে আড়ি পাতার ্িষয়য়টি ওঠে আসে। বিভিন্ন দেশে সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, অধিকার কর্মী এবং আরো অনেকের ওপর গোপন নজরদারি নিয়ে এক অনুসন্ধানী রিপোর্ট নিয়ে এখন তোলাপাড় চলছে এখন। জানা গেছে, সিটিজেনস ল্যাব, পেগাসাসের ব্যবহার নিয়ে তাদের ২০১৮ সালের এক অনুসন্ধানের পর প্রথম বাংলাদেশের নাম করেছিল। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘কোনো দেশে কোনো মোবাইল ফোনে পেগাসাসের উপস্থিতি পাওয়ার অর্থ এই যে সেদেশের সরকারই পেগাসাসের ক্রেতা।’ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত রিপোর্টে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দেয়া হলেও, সরকারের একজন মন্ত্রী পেগাগাস কেনা বা ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সরকারের টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে উদ্ধৃত করে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার লিখেছে, ‘টেলিযোগাযোগ বিভাগ বা তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ এই ধরণের কোনো স্পাইওয়্যার কেনেনি। কেনার কোনো প্রশ্নই আসেনাৃ বাংলাদেশের মানহানির চেষ্টা হচ্ছে।’

জামাল খাশোগজির বাগদত্তা হাতিশ চেঙ্গিজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *