কড়ানজর
  • October 26, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

আ.লীগের কোন্দল ও নির্বাচনোত্তর সহিংসতার জের কালীগঞ্জে নৌকার সমর্থক খুন

কড়া নজর প্রতিবেদন ঃ
গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শত্রæতার জেরে নৌকার প্রার্থীর কর্মী খুন হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলায় তিনি মারাত্মক জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তিনি মারা যান।
নিহত এনামুল হক (২২), স্থানীয় মধ্য নারগানা এলাকার আব্দুল বাতেনের ছেলে। তিন ওই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মাহবুবুর রহমান খাঁন ফারুক মাস্টারের কর্মী ও সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনে বিদ্রোহী ও নির্বাচিত চেয়ারম্যান খাইরুল আলমের সমর্থকরা এনামুল হককে খুন করেন বলে এলাকাবাসী জানায়।
দলীয় সূত্র জানায়, এই হত্যাকান্ড কালীগঞ্জের নোংরা রাজনীতির ফসল। গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জের ৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কালীগঞ্জ আওয়ামী লীগ দলীয় রীতি ভঙ্গ করে প্রত্যেকটি ইউপি’র জন্য প্রার্থীর প্যানেল না পাঠিয়ে একজন করে প্রার্থীর নাম পাঠায়। জামালপুর ইউপিতে নাম পাঠানো হয় থানা যুবলীগের সভাপতি এস এম আলমগীর হোসেনের নাম। পরে মনোনয়ন বোর্ড থেকে বারবার নির্বাচিত মাহবুবুর রহমান খাঁন ফারুক মাস্টারকে নৌকার প্রার্থী মনোনীত করে। এস এম আলমগীর সেক্ষেত্রে প্রার্থী না হয়ে গত নির্বাচনে দল থেকে বহিঃস্কৃত মো. খাইরুল আলমকে সমর্থন জানান। তিনি নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে নির্বাচনপূর্ব ত্রাস সৃষ্টি করেন। নির্বাচনের আগের দিন আলমগীর বাহিনীর হাতে আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মোড়ল, আসাদুজ্জামান বরুন,রনি মোড়ল,রানা, রাসেল ও শফিকুলসহ ১৫/২০ জন আহত হন। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। উল্টো হামলার শিকারদের নামে মামলা করে তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়।


নিহতের চাচা মো. আলম বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান খাঁন ফারুক মাস্টারের পক্ষে নৌকার প্রচারণাসহ নির্বাচনী বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এনামুল। এনিয়ে তখন থেকেই তার সঙ্গে নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খাইরুল আলমের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তারা তাকে বিভিন্ন সময়ে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর স্বতন্ত্রপ্রার্থী ও বিজয়ী চেয়ারম্যান খাইরুল আলমের কয়েক কর্মী স্থানীয় নারগানা এলাকার জহিরুল হক বকুলের ছেলে মাসুদ (৪৫), তার ভাই বাছির (৩৫), মাসুদের ছেলে সাগর (২৫), মৃত জয়নালের ছেলে সাইফুল (৩৫) এবং তার ছেলে রিফাতসহ (২২) অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জন অতর্কিতভাবে এনামুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে পালিয়ে যায়। এতে এনামুল গুরুতর জখম হন। পরে তার স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনামুল মারা যায়।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান খাঁন ফারুক মাস্টার বলেন, ”এনামুল নৌকার পক্ষে আমার কর্মী ছিল। তিনি আমার নির্বাচনী এজেন্ট থাকার কথা ছিল। ওই সময় আমার প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা তাকে নানা হুমকি দিয়েছিল। ভয়ে এনামুল আর তার নির্বাচনে এজেন্ট হননি। নির্বাচনের আগের দিন থেকেই এনামুল জরুরী কোন কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে বাইরে বের হতেন না।”
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান খাইরুল আলম বলেন, ”এনামুলের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতরা কেউ আমার লোক বা সমর্থক নয়। এনামুলের উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন একটি কুচক্রী মহল ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই আমার ও আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন এনামুলকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে এনামুল মারা যান। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।

#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *