কড়ানজর
  • October 20, 2021
  • Last Update October 1, 2021 6:00 pm
  • গাজীপুর

আল-কায়েদা আইএস তালেবান বিপুল শক্তিতে ফিরছে বিশ্বকে ঝুঁকিতে ফেলে আমেরিকা কী নিরাপদে থাকবে ?

১৯৮৯ আর ২০২১ সাল। ফারাক ২২ বছর হলেও ইতিহাসের নিষ্ঠুর পুনরাবৃত্তির প্রতিধ্বনি স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে। ’৮৯ সালের মার্চে সোভিয়েত সৈন্যদের শেষ দলটি আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিল কূটনীতিকরা রাতারাতি দূতাবাস বন্ধ করে চলে যাচ্ছিলেন। মস্কো- সমর্থিত আফগান সরকারের শঙ্কা অল্পদিনের মধ্যে সত্য প্রমাণিত হল। একটি মুজাহিদিন বাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। আরো কয়েকটি চরমপন্থী দলের হানাহানি গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয় আফগানিস্থানকে। চরম অরাজকতার মধ্যে বিস্ময়করভাবে অসম্ভব ক্ষিপ্ততার সঙ্গে ১৯৯৬ সালে তালেবান (যার অর্থ মাদ্রাসা ছাত্র) নামে মিলিশিয়া গোষ্ঠি রাষ্ট্রক্ষমতা কব্জা করে। নিষ্ঠুরতা-কঠোরতার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত তারা আফগানিস্তান শাসন করে।
আমেরিকা তাদের হটিয়ে ২০০১ সালে ঘাঁটি গাড়ে। ২০ বছর পর আমেরিকা যখন রাতের আঁধারে আফগানিস্তান ত্যাগ করে তখন সেখানে ১৯৮৯ সালের অনুরূপ চিত্র। কথিত দোহা চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক এলাকা বিনা প্রতিরোধে দখল করে রাজধানীর দিকে এগুচ্ছে। পশ্চিমা দূতাবাসগুলো নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। এ সপ্তাহে কাবুল থেকে বেলজিয়াম দূতাবাসের অবশিষ্ট কূটনীতিকরাও চলে গেছেন। অস্ট্রেলিয়া মে মাসে তাদের দূতাবাসে বন্ধ করে দিয়েছে। ফরাসি দূতাবাস প্রায় খালি। ব্রিটেন এবং অন্যরা ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। মে মাসে অস্ট্রেলিয়া কাবুলে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে অনেক অফগান ক্ষুব্ধ হয়েছিল। ব্রিটিশ দূতাবাস এক টুইট করে অফগানিস্তান থেকে সমস্ত ব্রিটিশ নাগরিকদের ‘যত দ্রæত সম্ভব’ চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
ক্ষুব্ধ এবং হতাশ আফগান নারী আয়েশা বলেন, ‘এই প্রত্যাহারের ভেতর দিয়ে বাকি বিশ্ব যেন পূর্বাভাস দিচ্ছে যে আমাদের সামনে ভয়ঙ্কর সময়-আবার একটি গৃহযুদ্ধ।’ সামনে লড়াই তীব্র হওয়া আফগানের মধ্যে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে।
কাবুলে বিস্ফোরক নিরোধী দেয়াল এবং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা অনেক দূতাবাস এবং ত্রাণ সংস্থার অফিসগুলোর ভেতরে থেকে ‘যাব নাকি থাকব’ – দোটানার এই ধ্বনি শুনা যাচ্ছে।
মনোবল হারানো সরকারি সেনারা তাদের ঘাঁটি ছেড়ে হয় পালাচ্ছে, নয়তো আত্মসমর্পণ করছে। এসব ঘাঁটি এখন তালেবান বাহিনীর দখলে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে প্রত্যাবর্তনের অপচ্ছায়া দেখা যাচ্ছে। সা¤প্রতিক দিনগুলোতে আফগানিস্তানে তালেবান বাহিনী একের পর এক জেলায় হামলা চালিয়ে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক একজন বিশ্লেষক ডক্টর সাজান গোহেল বিবিসিকে বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সেখানে তালেবানদের প্রত্যাবর্তনকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে। আল কায়দাকে নতুন করে তাদের নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন এর সুযোগ করে দিয়েছে । এর ফলে তারা আবারও বিশ্বজুড়ে হামলার ষড়যন্ত্র করতে সক্ষম হবে।’


তালেবান ও আল-কায়েদা যমজ ভাইয়ের মতো
তালেবান এবং আল-কায়েদার মধ্যে সম্পর্ক কেমন ? তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরলে অনুষঙ্গ হিসাবে আল-কার্র্্েরয়দার প্রত্যাবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এর অর্থ আবারও আফগানে আল-কায়েদার ঘাঁটি, সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ শিবির, কুকুরের ওপর বিষাক্ত গ্যাসের পরীক্ষা- এগুলো দেখা যাবে? যেগুলো বন্ধ করার কথা বলেই ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়েছিল?‘ তালেবান আর আল-কায়েদা আলাদা কিছু নয়। এদের মধ্যে অনেক অভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে, যেটি নেতারা চাইলেও পুরোপুরি ছাড়তে পারবেন না’, বলছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডঃ গোহেল। আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেট আফগানিস্তানে আগে থেকেই আছে। আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন যখন ১৯৯৬ সালে তার ঘাঁটি সুদান হতে আফগানিস্তানে নিয়ে যান। তারপর ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে তালেবান তাদের নিরাপদ আশওয়য় দিয়েছে। তালেবান এতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। আফগানিস্তানে আল-কায়দার এই ঘাঁটি থেকেই নাইন ইøেলভেনের হামলা পরিচালনা।
আফগানিস্তান নিয়ে যত ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে, এটি হয়তো তার মধ্যে একেবারে সবচাইতে নেতিবাচক দিকে পড়বে। কিন্তু দুটি জিনিস নিশ্চিতভাবেই ঘটতে চলেছে।
প্রথমত ঃ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া আফগান সরকারের পক্ষে তালেবানকে আটকানো কঠিন হবে। আর আফগানিস্তানে বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার , ১৯৮৯ সালের প্রতিধ্বনি।


আফগানিস্তান গনিকার মত হাতবদল হচ্ছে
গত শতাব্দীর ৫০ দশক থকে দুই পরাশক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে আফগাস্তিানে তাদের ঘাঁটি বানিয়েছে। যে অজুহাতে পরাশক্তির আগমন তা সম্পন্ন না করেই তাঁরা চলে গেছে। সাবেক আফগান উপমন্ত্রী মোকাদ্দেছা ইউরিশ এবং বর্তমানে কাবুলে একটি যোগাযোগ সংস্থার নির্বাহী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ‘কোনো জাতিকে যদি বার বার বলা হয় তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, ব্যর্থতাই তাদের নিয়তি তাহলে বিদেশীদের বিকল্প হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার সাহস তারা কোথায় পাবে? ’

#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *