কড়ানজর
  • September 20, 2021
  • Last Update September 20, 2021 2:51 am
  • গাজীপুর

আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি কারা ? প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে তারেক জিয়াসহ বিএনপিকে দায়মুক্তি

আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি কারা ?        প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে তারেক জিয়াসহ বিএনপিকে দায়মুক্তি


কড়া নজর প্রতিবেদকঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলার মূল চক্রান্ত ছিল তারেক রহমানের, আর এতে তার মা খালেদা জিয়ারও সমর্থন ছিল।’
এই মামলার রায়ে তারেক রহমান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। মৃতদন্ডিত ওই সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু । দন্ডিতদের মধ্যে আরও আছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা-সাংসদ হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, গাজীপুর প্রেসক্লাবে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার আলোচনা অনুষ্ঠানে সুকৌশলে বিএনপিকে হামলা থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের ব্যানারে হামলার জন্য সরাসরি ‘জামায়াত ও জঙ্গি’ গোষ্ঠিকে দায়ী করা হয়। প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে এত বড় ইতিহাসবিকৃতি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সুধী মহলকে বিস্মিত করেছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, ওই অনুষ্ঠানে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে কেন ইতিহাসবিকৃতি ?
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানের আয়োজকরা অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সঞ্চালক রিপন শাহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ‘জাসাস’র পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আদালত যেদিন দন্ড দেয় সেদিন আয়োজকদের অধিকাংশই জয়দেবপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। তারাই রাতারাতি ভোল পাল্টে শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার জন্য মায়াকান্না করছে। তবে তারা যে মূল থেকে বিচ্যুত হননি তার প্রমাণ ‘প্রাণের দল বিএনপি’কে গ্রেনেড হামলা থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার অপচেষ্টা। প্রসঙ্গতঃ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রথম সারির সকল নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। সরকারে তখন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলে আসছেন হামলার ব্যাপারে খালেদা জিয়া অবহিত এবং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পৃক্ত ছিল। হামলার রাতেই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ৪ আসামিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাঠানো হয়।
দন্ডিত কারা ?
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে ঃ লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, মাওলানা মোঃ তাজউদ্দিন (পলাতক), মেজর জেনারেল (অব) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব) আব্দুর রহিম, মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, মোঃ আব্দুল মাজেদ ভাট, আব্দুল মালেক, মাওলানা শওকত ওসমান, শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ, মো ঃ জাহাঙ্গীর আলম, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈনউদ্দিন, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ উজ্জল, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মোঃ হানিফ। তাদের সবাইকে এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদÐপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছে, তারেক রহমান (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান(পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক), রাতুল আহমেদ (পলাতক), মাওলানা আবদুর রউফ , সাব্বির আহমেদ , আরিফ হাসান , শাহাদাৎ উল্লাহ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বকর , আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরসালীন (পলাতক), মোঃ খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো: ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক),। তাদের প্রত্যককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *