কড়ানজর
  • September 27, 2021
  • Last Update September 26, 2021 8:12 pm
  • গাজীপুর

আইসিইউতে কর্মচারীদের মারধরের পর কোভিড রোগীর মৃত্যু,

আইসিইউতে কর্মচারীদের মারধরের পর কোভিড রোগীর মৃত্যু,

কড়ানজর প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি শিন-শিন জাপান নামক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সবুজ পিরিচ (৩২) নামে এক রোগীকে মারধরের ঘটনায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) নিহত সবুজের শ্বশুর জ্যোতি কস্টা একথা জানান।

তিনি বলেন, “গত ১৯ জুন উত্তরার শিন-শিন জাপান নামে একটি হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে ভর্তি হন সবুজ। এর ৪ দিন পর ২৩ জুলাই হাসপাতালটির কয়েকজন কর্মচারী তাকে মারধর করে।”

এ ঘটনার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরে মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে মৃত্যু হয় তার।

নিহতের শ্বশুর আরো জানান, ২৩ জুলাই সবুজকে বাঁচাতে ৮০,৮০০টাকার একটি ইনজেকশন প্রয়োজন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইনজেকশন নেওয়ার পর থেকেই অসংলগ্ন আচরণ শুরু বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি প্রতিদিনের ঔষধ বাবদও ৩৫হাজার টাকা দিতে হচ্ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। ভর্তির পর থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরীক্ষার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিচ্ছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দুইজন নার্স ও একজন ওয়ার্ড বয়কে ছুরিকাঘাত করে সবুজ। বর্তমানে একজন নার্স হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তরা (পশ্চিম) থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রসঙ্গে নিহতের শ্বশুর বলেন, “আইসিইউ একটি সংরক্ষিত এলাকা, ধারালো ছুরি সেখানে থাকার কথা নয়।” 

এদিকে, হাসপাতালটির সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ সংগ্রহ করলেও এখনও পর্যন্ত তদন্ত শুরু হয়নি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম আশিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মৃত্যুর সনদপত্র অনুযায়ী এ তথ্য জানতে পেরেছি।”

এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তদন্তের পর পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে  বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *